চিনির দাম কেজিতে ১৬ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা আসছে

সরকারিভাবে চিনির মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার আগেই বাজারে ইতোমধ্যে কেজিতে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটি।

প্রতি কেজি চিনির মূল্য ১৬ টাকা বাড়িয়ে ১২০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে মন্ত্রণালয়। এটি খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় আসবে।

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের চিনির দাম বাড়ানোর কথা জানান।

তিনি বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাজারে খোলা চিনি প্রতি কেজির দাম বেড়ে হবে ১২০ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনি প্রতি কেজির দাম বেড়ে হবে ১২৫ টাকা।

বাস্তবতা হচ্ছে, বাজারে এখনই এই দরে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। দুদিন আগেও ঢাকার কাওরান বাজারে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছিল কেজি ১৪০ টাকায়। আর প্যাকেটজাত চিনি পাওয়াই যাচ্ছিল না।

সর্বশেষ গত এপ্রিলে চিনির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তখন প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০৪ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনি ১০৯ টাকা করার ঘোষণা এসেছিল। শুরুতে সে অনুযায়ী বিক্রি হলেও তারপর চিনির দাম বাড়তে বাড়তে এখন ১৪০ টাকায় উঠেছে।

বাণিজ্য সচিব জানান, কয়েকদিন আগে সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে দাম সমন্বয় করার অনুরোধ জানায়। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী খোলা চিনি প্রতি কেজি ১২০ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনি প্রতি কেজি ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দামে চিনি বিক্রির জন্য বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। তবে তারা আমাদের এ বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি।

চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে গত মার্চে এক দফায় শুল্ক কমিয়ে আনার ঘোষণা দেয় সরকার, যা ৩১ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থতি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় শুল্কছাড়ের এই সুবিধা আরও কিছু সময়ের জন্য বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ করা হবে বলে জানান সচিব। তিনি বলেন, চিনির বর্তমান শুল্কহার অব্যাহত রাখার জন্য আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি পাঠাব।