ঘুমন্ত নারীদের নগ্ন চিত্র ধারণ করতেন তারা, অর্ধশতাধিক ভিডিওসহ অবশেষে গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় রাতের আঁধারে ঘুমন্ত নারীদের নগ্ন-অর্ধনগ্ন ভিডিও ও ছবি ধারণ করার অপরাধে এক যুবক ও তার সহযোগী প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৪ মে) রাতে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল উপজেলার সাপখোলা গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সাপখোলা গ্রামের আদিল উদ্দিন খাঁ’র ছেলে জুলকার খাঁ (৪০) ও তার প্রেমিকা শামছুল বিশ্বাসের মেয়ে জান্নাতি খাতুন (২০)। এ বিষয়ে শুক্রবার (৫ মে) সকাল ১১টায় ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে বিস্তারিত জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেন পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান।

পুলিশ সুপার জানান, শৈলকুপা উপজেলার সাপখোলা গ্রামে মামুন ফেরদৌসের বাড়িতে রাতের আঁধারে জানালা দিয়ে কে বা কারা তার ঘুমন্ত স্ত্রী ও কন্যার ভিডিও করছিল। এ সময় মোবাইলের ফ্লাস লাইটের আলো জ্বলে উঠলে ফেরদৌস ঘরের ভেতর অজ্ঞাত যুবকের হাত চেপে ধরে। এ সময় মোবাইল ফোন ফেলে পালিয়ে যায়। ফেলে যাওয়া এই ফোনের মধ্যে সাপখোলা গ্রামের অর্ধশতাধিক নারীর নগ্ন ও অর্ধনগ্ন ভিডিও ও ছবি পাওয়া গেছে।

গত ৪ মে ফেরদৌস বাদী হয়ে শৈলকুপা থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা করেন। পরে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহভাজন দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান বলেন, আসামির জবানবন্দিতে জানা গেছে জুলকার খাঁর একাধিক স্ত্রী চলে যাওয়ার পরে একই গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা জান্নাতির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ অবস্থায় প্রেমিকা জান্নাতি খাতুনের সঙ্গে পরিকল্পনা করে মোবাইল দিয়ে রাতের আঁধারে গোপনে বিভিন্ন ঘুমন্ত মেয়েদের নগ্ন ও অর্ধনগ্ন ভিডিও ও ছবি ধারন করে। গত তিন-চার মাস যাবৎ ধারনকৃত ভিডিও দিয়ে তারা মানুষকে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করবে, এটিই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল।