এশিয়া সফরই কোপার প্রস্তুতি মেসিদের

কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর আর্জেন্টিনার লক্ষ্য এখন ২০২৪ কোপা আমেরিকার ট্রফি ঘরে তোলে। সর্বশেষ আসের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়েই এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাই শুরুর আগে ফিফা উইন্ডোর অংশ হিসেবে চলতি মাসে এশিয়া সফরে আসছে আর্জেন্টিনা। আগামী ১৫ ও ১৯ জুন অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ লিওনেল মেসিরা। এই এশিয়া মিশনই বিশ^চ্যাম্পিনদের কোপার প্রস্তুতি।

আগামী সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাই শুরুর আগে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ম্যাচটি হবে মেসিদের শেষ প্রীতি ম্যাচ। বিশ^কাপ জয়ের পর দেশের মাটিতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল আর্জেন্টিনা। যেখানে প্রথম ম্যাচে পানামার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের পর কিরাসাওকে ৭ গোলে উড়িয়ে দিয়েছি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যে আবরো প্রীতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষের আর্জেন্টিনার ম্যাচটি হবে চীনের বেইজিংয়ে। ফ্রান্সকে হারিয়ে কাতার বিশ^কাপ জয়ের মঞ্চেও শেষ ষোলোয় অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন মেসিরা। আর ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি হবে জাকার্তায়। এরপর ২০২৬ বিশ^কাপের বাছাইপর্ব খেলে মেসিরা প্রস্তুতি নেবে ২০২৪ কোপা আমেরিকার। যা অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। কনমেবলের ১০ দলের সঙ্গে অংশ নিবে কনকাফাফের ৬ দল। ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ১৬ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে কোপা আমেরিকা। গত আসরে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিযোগিতায় শিরোপা জেতার স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা।

এশিয়া সফরের আগে দুঃসংবাদ পেয়েছে আর্জেন্টিনা শিবির। চোটে আক্রান্ত হয়েছেন কদিন আগে সেভিয়াকে ইউরোপা লিগ শিরোপা জেতানোর নায়ক গঞ্জালো মন্টিয়েল। রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে গত রবিবার লা লিগার মৌসুমের শেষ ম্যাচে খেলতে নেমে প্রথমার্ধের সপ্তম মিনিটেই পেশীর ইনজুরিতে পড়েন তিনি। মাঠ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর আর খেলতে নামতে পারেননি আর্জেন্টাইন এই রাইটব্যাক। মেসিদের এশিয়া সফরের ২৭ সদস্যের দলে রয়েছেন মন্টিয়েল। তাই এশিয়া সফরের আগ মুহূর্তে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে লিওনেল স্কালোনির। এর আগে কাতারে আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাস গড়ার সেই দিনটিতে ত্রাতার ভূমিকা পালন করেছিলেন মন্টিয়েল। কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার হয়ে টাইব্রেকারে শেষ শটটি নেয়ার ভার পড়েছিল মন্টিয়েলের ওপর। ফ্রান্স গোলকিপার হুগো লরিসকে ফাঁকি দিয়ে সেদিন মন্টিয়েল লক্ষ্যভেদ করার পর বিশ্বজয়ের আনন্দে ভেসে গেছিল আর্জেন্টিনা।

মেসিদের ম্যাচ সরাসরি দেখা সহজ হবে না চীনের ফুটবলপ্রেমিদের জন্য। মাঠে গিয়ে মেসিদের খেলা সরাসরি দেখতে তাদের গুনতে হবে বিশাল অঙ্কের টাকা। বেইজিংয়ে ৬৮ হাজার আসন বিশিষ্ট ওয়ার্কার্স স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের জন্য টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে গতকাল। চলবে ৮ জুন পর্যন্ত। যেখানে টিকেটের সর্বনিম্ন মূল্য ৫৮০ ইউয়ান বা ৮২ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য পায় ৮ হাজার ৮০০ টাকা। আর টিকেটের সর্বোচ্চ মূল্য ৪৮০০ ইউয়ান বা প্রায় ৭২ হাজার ৭০০ টাকা। তবে আর্জেন্টিনার ম্যাচের টিকিটের চড়া মূল্য দিতে নারাজ চীনারা। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা। দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে এ বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন অনেকেই। এক সমর্থক তো টিকেটের এই চড়া মূল্য নেয়াকে রীতিমতো ডাকাতি হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছেন। টিকেটের মূল্য নিয়ে চীনের ফুটবলপ্রেমীদের অসন্তোষ থাকলেও মেসিকে সরাসরি দেখার লোভ সামলাতে পারছেন না অনেকেই। তাই মূল্য আশানুরূপ না হওয়া সত্ত্বেও টিকেটের চাহিদাও কিন্তু কম নয়। তবে কোনো টিকেট কালোবাজারে যাতে বিক্রি না হয়, সে জন্য শক্ত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে চীনের ফুটবল ফেডারেশন। ধারণা করা যাচ্ছে যে, পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো দর্শককে মাঠে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়া হবে না। এরপরেও থেমে নেই কিছু দুষ্কৃতকারীরা। কড়াকড়ি নিয়ম থাকা সত্ত্বেও কালোবাজারে টিকেট বেচাকেনা চলছেই। চীনের অন্যতম বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম তাওবাওয়ে প্রকাশ্যে চলছে টিকেটের বুকিং।

অপরদিকে, চলতি মৌসুমেই পিএসজি থেকে বিদায় নেবেন মেসি। ইতোমধ্যে ক্লাবটির হয়ে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন তিনি। তবে মেসি ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার পরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু অনুসারী ছেড়ে যাচ্ছেন ফরাসি ক্লাবটিকে। এই সংখ্যাটা ১০ লাখের কাছাকাছি। গত শনিবার রাতে পার্ক দ্য প্রিন্সেসে মেসির বিদায়ী ম্যাচে ক্লেরমন্টের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরে মৌসুম শেষ করেছে পিএসজি। শেষ ম্যাচেও সমর্থকদের দুয়োধ্বনিও শুনতে হয়েছে তাকে। কিন্তু মেসির ভক্তসংখ্যা তো শুধু পিএসজিতে সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো সমর্থক পিএসজির প্রোফাইল আনফলো করতে শুরু করেছেন। বার্সেলোনার সঙ্গে ২১ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে ২০২১ সালে ফরাসি ক্লাব পিএসজিতে যোগ দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ক্লাবটিতে যোগ দেয়ার পর বিশ^জুড়ে পিএসজির ফলোয়ার বাড়তে থাকে বিদ্যুতের গতিতে। পিএসজির প্রায় সাড়ে ৬৯.৯ মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার ছিল শুধু ইনস্টাগ্রামেই। কিন্তু এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে সাড়ে ৬৮.৭ মিলিয়নের ঘরে। এছাড়া ফেসবুক ও টুইটারেও ফলোয়ার কমেছে পিএসজির। তাছাড়া মেসির জার্সি বিক্রি করে যে বিপুল অঙ্কের অর্থ আয় করতো পিএসজি, সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে লিগ ওয়ানের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।