ঈদের ৩ দিনে ডিএমপির ৫০ থানায় ৬৭ মামলা, ৭৩৮ জিডি

ঈদের আগের দিন থেকে ঢাকা শহর অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেছে। মোটামুটি তিন দিনে ফাঁকা শহরকে নিরাপদে রেখেছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও ঘটেছে নানা অপরাধমূলক ঘটনা। ঈদের ছুটির তিনদিনে ডিএমপির ৫০ থানায় ৬৭টি মামলা ও ৭৩৮টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের হয়েছে। এছাড়া আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন ১২৩ জন।

পুলিশ ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, এবারের ঈদে নিরাপত্তার স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য রাজধানীজুড়ে কাজ করছে। বিভিন্ন মোড়ে মোতায়েন আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথসহ নগরীর অভিজাত এলাকগুলোতে চেকপোস্ট ও তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। এছাড়া ইউনিফর্ম টিমের মোবাইল ডিউটি, মোটরসাইকেল টহল, সিসি ক্যামেরায় অপরাধী চিহ্নিতকরণ, সিভিল টিমের টহল জোরদার করা হয়েছে। ব্যাংক-বিমাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মার্কেটে এমনকি পাড়া-মহল্লা, আবাসিক এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল।

জানা গেছে, ডিএমপির ৫০টি থানার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়। চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে সতর্ক রয়েছে পুলিশ। বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সিসিটিভি চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

ডিএমপি সূত্র জানায়, ঈদে শহর ছেড়ে যাওয়া মানুষের বাসা-বাড়ির নিরাপত্তা বাড়াতে টহল জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে গুজব ছড়িয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সেদিকে সজাগ ও সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নিদের্শনা অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

তিন দিনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি

২১ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ডিএমপির ৫০টি থানায় মোট মামলা হয়েছে ৬৭টি। আর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে ৭৩৮টি। আর এই তিনদিনে আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে মোট ১২৩ জন।

২১ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ডিএমপির রমনা বিভাগের ছয়টি থানায় মামলা হয়েছে পাঁচটি, জিডি হয়েছে ৯৫টি, আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে ১২ জন।

মতিঝিল বিভাগের সাত থানায় মামলা হয়েছে ১০টি, জিডি হয়েছে ১০২টি, আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে ৩০ জন।

লালবাগ বিভাগের ছয় থানায় মামলা হয়েছে আটটি, জিডি হয়েছে ৪৭টি, আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে ১৮ জন।

ওয়ারী বিভাগের ছয়টি থানায় মামলা হয়েছে ১০টি, জিডি হয়েছে ৮৪টি, আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে ১৬ জন।

তেজগাঁও বিভাগের ছয়টি থানায় মামলা হয়েছে আটটি, জিডি হয়েছে ১০৪টি, আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে নয়জন।

মিরপুর বিভাগের সাত থানায় মামলা হয়েছে পাঁচটি, জিডি হয়েছে ১০৭টি, আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে ১০ জন।

গুলশান বিভাগের ছয় থানায় মামলা হয়েছে নয়টি, জিডি হয়েছে ১১৫টি, আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে আটজন।

উত্তরা বিভাগের সাত থানায় মামলা হয়েছে নয়টি, জিডি হয়েছে ৯৪টি, আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে ১৩ জন।