ঢাকা উত্তরে ৮ ঘণ্টায় শতভাগ বর্জ্য অপসারণ

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় নির্ধারিত ৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য শতভাগ অপসারণ করা হয়েছে। ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, সবার সহযোগিতায় পূর্বঘোষিত ৮ ঘণ্টার আগেই ঢাকা উত্তর সিটির কোরবানির বর্জ্য শতভাগ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। সচেতন নাগরিকদের আন্তরিক সহযোগিতায় এটি করতে পেরেছি। আমি নগরবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আগামী দিনেও ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে জনগণ ও সিটি কর্পোরেশনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) বেলা ২টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মণিপুর এলাকায় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। রাত সাড়ে ৯টায় সবগুলো ওয়ার্ডে শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়। ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলে ঈদের দিন রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ২ হাজার ৭১৩টি ট্রিপে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ডিএনসিসির বর্জ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৪টি ওয়ার্ডের শতভাগ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সব বর্জ্য সংগ্রহ করে এসটিএসে রাখা হয়েছে। সেগুলো ল্যান্ডফিলে ট্রান্সফার করা হচ্ছে। ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সরাসরি তদারকি করেন। বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে মনিপুর এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর তিনি আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, মগবাজার, মধুবাগ, রামপুরা, খিলগাঁও, প্রগতি সরণি ও উত্তরা এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সশরীরে পরিদর্শন করেন। ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলে তদারকির জন্য পাঁচজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে পাঁচটি গ্রুপ গঠন করা হয়। পাঁচটি গ্রুপে নেতৃত্ব দিয়েছেন—ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। প্রতিটি গ্রুপ দুটি করে অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণে ১১ হাজার কর্মী কাজে নিয়োজিত ছিল। এছাড়াও নগর ভবনের নীচ তলায় অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের নম্বর: ০২-৫৫০৫২০৮৪, ১৬১০৬। ‘সবার ঢাকা’ অ্যাপেও তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সকাল থেকে ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার থেকে মনিটরিং করা হয়। সন্ধ্যায় পরিদর্শন শেষে ডিএনসিসির মেয়র বর্জ্য বিভাগকে এবং তদারকির জন্য গঠিত পাঁচটি গ্রুপকে ঈদের পরের দিনেও কোরবানির বর্জ্য দ্রুত সময়ে অপসারণের করার নির্দেশ দেন। কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শফিকুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহ. আমিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এস এম শরিফ-উল ইসলাম, ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, কাউন্সিলরবৃন্দ এবং ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।