কোরবানির ফযিলত

কোরবানির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ত্যাগ করার মানসিকতা তৈরী করা। আল্লাহর বিধান পালনে জান-মালের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। কোরবানির ঈদকে গোশত খাওয়ার অনুষ্ঠানে পরিণত করা নয়, বরং নিজেদের মধ্যকার পশুসুলভ আচরণ ত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। নফসের আনুগত্য ত্যাগ করে আল্লাহর একান্ত অনুগত হওয়াই কোরবানির উদ্দেশ্য।

পশু কোরবানির মাধ্যমে কোরবানি দাতা হযরত ইবরাহিম (আঃ) ও শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি গুরত্ববহ ঐতিহাসিক সুন্নাত পালন করতে পারে।

যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর আমি মহা কোরবানির মাধ্যমে তাকে মুক্ত করেছি।’ (সুরা আস-সাফফাত: আয়াত ১০৭)

এছাড়াও বান্দা কোরবানির পশুর রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভ করে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর নিকট এসব পশুর রক্ত ও গোশত পৌছায় না, তাঁর নিকট পৌছে তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হাজ্জ আয়াত: ৩৭)

আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন কোরবানির প্রবাহিত রক্ত আল্লাহ তায়ালার নিকট দুইটি কুচকুঁচে কালো ছাগলের চেয়ে প্রিয় ও পবিত্র। (বায়হাকী)

অন্য হাদিসে তিনি বলেন, ‘কোরবানির দিন পশু যবেহ (অর্থাৎ কোরবানি) ব্যতিত অন্য কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় নয়।’ (সুনানে তিরমিযি)

তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রফুল্ল চিত্তে কোরবানি করবে কেয়ামতের দিন জাহান্নাম ও ঐ ব্যক্তির মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাড়াবে।’ (আস সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, তাবরানি)

‘কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি পাওয়া যায়।’ (মেশকাত) এছাড়াও বহু ফযিলত কুরআন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।