৫৬১৭ কোটি টাকার ১৭ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির একটি প্রস্তাবসহ ১৭ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ৫ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। Google news বুধবার (২৩ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির ভার্চুয়াল সভায় প্রস্তাবগুলোতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৮তম এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৭তম সভা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য ৩টি এবং ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ১৭টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। ক্রয় কমিটির প্রস্তাবগুলোর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৫টি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৩টি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২টি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ২টি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২টি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ১টি, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১টি এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রস্তাব ছিল। অনুমোদিত ১৭টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ৫ হাজার ৬১৭ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ২৫ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি থেকে ব্যয় হবে ৩৫৫ কোটি ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬২৫ টাকা এবং দেশি ব্যাংক ও বৈদেশিক অর্থায়ন ৫ হাজার ২৬২ কোটি ৩৬ লাখ ৩০ হাজার ৪০০ টাকা। সভায় ‘ইন্সটলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপ লাইন’ প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি । প্রকল্প ২০২৩ সালে ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার পর অপারেশন এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগের লক্ষ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য একক ফার্ম হিসেবে এসপিএম প্রকল্পে নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জার্মানির আইএলএফ কনসাল্টিং কে প্রস্তাব দাখিলের অনুরোধ করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দাখিল করে। প্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে পিপিসি কর্তৃক নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশকৃত প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এতে ব্যয় হবে ২০ লাখ ২১ হাজার ১২৫ মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্যাকেজ-২ এর আওতায় ৫০ হাজার (+৫%) মেট্রিক টন গম আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে ৪টি দরপত্র জমা পড়ে যা রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর ভিত্তিক মেসার্স অ্যাগ্রোকরপ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডকে নির্বাচিত করা হয়। প্রতি মেট্রিক টন গমের দাম ৩০৪.৮৩ মার্কিন ডলার হিসেবে মোট ব্যয় হবে ১ কোটি ৫২ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬৬ কোটি ৮৯ লাখ ৪৪ হাজার ২৫০ টাকা। প্রতি কেজি গমের দাম ৩৩.৩৮ টাকা। সভায়, ‘রূপসা নদীর ওপর রেল সেতু নির্মাণ’ পূর্ত কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। রূপসা নদীর ওপর রেল সেতু নির্মাণের পূর্ত কাজে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে ভারতের মেসার্স লারসেন অ্যান্ড টউবরো লিমিটেড। প্রাথমিকভাবে চুক্তিমূল্য ছিল ১ হাজার ২৩৮ কোটি ১২ লাখ ৩ হাজার ৮৯৯ টাকা। চুক্তি অনুসারে কাজ চলমান অবস্থায় পূর্ত কাজের পরিধি হ্রাস/বৃদ্ধি হওয়ায় ১ম ও ২য় ভেরিয়েশনের পর ৩য় ভেরিয়েশন বাবদ ১৯ কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৫৯৯ টাকা ব্যয় হ্রাস করে সংশোধিত চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৪২৯ কোটি ৩১ লাখ ৪১ হাজার ৯৮ টাকা। কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ এর কাছ থেকে ২য় লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। কাফকোর সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী সারের মূল্য নির্ধারণ করে ২য় লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার প্রতি মেট্রিক টনের দাম পড়বে ৩৯৯.৭৫ মার্কিন ডলার। সে হিসেবে মোট ব্যয় হবে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩০ কোটি ৭১ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা। চট্টগ্রামের ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লি.-এর জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন (+১০%) ফসফরিক এসিড আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফসফরিক এসিড আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নিয়ে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ একমাত্র দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স সান ইন্টারন্যাশনাল এফজেডই, ইউএই (স্থানীয় এজেন্ট: মেসার্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনপুট, ঢাকা) এই ফসফরিক এসিড সরবরাহ করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৬১ কোটি ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড এর দাম ৫৬০.৫০ মার্কিন ডলার। ইটনা উপজেলার নামাকুড়া নদীর ড্রেজিং (প্যাকেজ-৩, লট -০১) এর পূর্ত কাজ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পের পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৪টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। তার মধ্যে ৩টি প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান বঙ্গ ড্রেজার্স লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ৫২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। মিঠামইন উপজেলার বোলাই এবং শ্রীগাং নদীর ড্রেজিং (প্যাকেজ-৩, লট-০২) এর পূর্ত কাজ ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পের পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৫টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। তার মধ্যে ৩টি প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ণ ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ৫২ কোটি ৫২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সভায় ‘উইকেয়ার ফেজ-১: ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক উন্নয়ন’-প্রকল্পের প্যাকেজ নং-ডব্লিউপি-০১-এর লট-১, ২ এবং ৩ এর পূর্ত কাজ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্যাকেজ নং-ডব্লিউপি-০১-এর লট-১, ২ এবং ৩ এর পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে লট-১ এ ১০টি, লট-২ এ ৯টি এবং লট-৩ এ ৯টি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে। সবগুলি প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন ৩টি দরদাতা প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ-১ এর ৩টি লট বাস্তবায়ন করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৪৪ কোটি ৯১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ‘সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক পৃথক এসএমভিটি লেনসহ ৪-লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়ে কমিটি। প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল আহ্বান করা হলে ৪টি প্রস্তাব দাখিল করে। প্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে পিইসি কর্তৃক নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশকৃত সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনকারী দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে আইসিটি, ইন্ডিয়া; আইআরডি ইঞ্জিনিয়ারিং,ইতালি এবং বিসিএল, বাংলাদেশ লিমিটেড-এর নাম সুপারিশ করে। এতে ব্যয় হবে ৬৭ কোটি ২৭ লাখ ৬১ হাজার ৯০৩ টাকা। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৮ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী ১ কোটি পরিবারের নিকট ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ৮ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয়ের জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৫টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। তার মধ্যে ৪টি প্রস্তাব রেসপনসিভ হয়। দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান নাবিল নবা ফুডস এই মসুর ডাল সরবরাহ করবে। প্রতি কেজি ৯৪.৪৪ টাকা হিসেবে ৮ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয়ে ব্যয় হবে ৭৫ কোটি ৫৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। সভায় ‘গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনোলজি সেন্টার নির্মাণের’ পূর্ত কাজ ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ১১টি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়। তার মধ্যে ৯টি প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ১৫৬ কোটি টাকা। ‘গাজীপুর জেলার কাশিমপুরে ডিজাইন টেকনোলোজি সেন্টার নির্মাণের’ পূর্ত কাজ ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পের পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ১০টি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৮টি প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ১১৮ কোটি টাকা। সভায় রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে মরক্কো, সৌদি আরব ও কানাডা থেকে পৃথক ৫টি প্রস্তাবের আওতায় দেশের কৃষি খাতে ব্যবহারের জন্য ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এর মধ্যে মরক্কো থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি ও ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার, সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার, কানাডা থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন করে ২টি প্রস্তাব মোট ১ লাখ মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৮৫৬ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর আগে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা হয়। সভায় ৩টি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।