রাজশাহীতে নির্বাচন কর্মকর্তার বাসায় অবরুদ্ধ আ. লীগ নেতা, পুলিশ এসে উদ্ধার

রাজশাহীর একজন নির্বাচন কর্মকর্তার বাসায় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন তার দলেরই নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তাকে উদ্ধার করে। নগরের সাগরপাড়া এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা।

আওয়ামী লীগের ওই নেতার নাম মীর ইশতিয়াক আহমেদ (লিমন)। তিনি রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। আর নির্বাচন কর্মকর্তার নাম আবুল হোসেন। তিনি সিটি নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা।

জানা গেছে, রোববার রাত ৯টার দিকে নগরীর সাগরপাড়া এলাকায় আবুল হোসেনের বাসায় ঢোকেন লিমন। তখন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে ওই বাসায় অবরুদ্ধ করেন। এরপর রাত ১২টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

উদ্ধারের আগ পর্যন্ত বাসাটি ঘিরে রেখেছিলেন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যারা লিমনকে অবরুদ্ধ করেছিলেন তাদের দাবি, লিমনের সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন। লিমনকে বাসায় অবরুদ্ধ করার সময় একটি ব্যাগ নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে তারা পালিয়েছেন।

লিমনের মামা আবদুল হামিদ সরকার টেকন নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। আগামী ২১ জুনের নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছেন। লিমনের বাবা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, লিমনের আরেক মামা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ এই পরিবারটি এবার সিটি নির্বাচনে নৌকার মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের জন্য কাজ করছেন না বলে অভিযোগ আছে।

লিমনকে উদ্ধারের আগ পর্যন্ত বাসাটি ঘিরে রেখেছিলেন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা

অবরোধকারীদের মধ্যে ছিলেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রাশিক দত্ত। তিনি বলেন, নৌকার মেয়র প্রার্থী লিটনকে পরাজিত ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল হামিদ সরকার টেকনকে বিজয়ী করতে লিমন টাকা ঘুষ দিতে গিয়েছিলেন নির্বাচন কর্মকর্তার বাসায়। বিষয়টি টের পেয়ে প্রথমে স্থানীয়রা ওই বাসাটি ঘিরে রাখে। পরে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যোগ দেয়।

প্রায় তিন ঘণ্টা পর বোয়ালিয়া থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশের সদস্যরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল হাসানের ফ্ল্যাটে ওঠেন। এরপর তার বাসা থেকে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমনকে আটক করে নিয়ে যান। তবে বাসা থেকে টাকা উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, লিমনকে আটকের পর জেলার নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল হোসেনকে আটকের দাবিতে আবারও তার বাসা ঘেরাও করে রাখে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হোসেন তাৎক্ষণিক কোনো কিছু জানাতে রাজি হননি।