কেসিসি নির্বাচন: ভোটের শুরুতেই ইভিএমে ত্রুটি

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটের শুরুতেই ইভিএম মেশিনে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে। চারটি কেন্দ্র ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্র চারটি হচ্ছে- মহানগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মহিলা কেন্দ্র ২৮৮ ও ২৮৯ এবং একই ওয়ার্ডের শিশু মেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ২৮৬ ও ২৮৭ নম্বর পুরুষ কেন্দ্র। মেশিনে ত্রুটির বিষয়টি প্রিজাইডিং অফিসার, নির্বাচনী এজেন্ট এবং ভোটাররাও নিশ্চিত করেছেন। মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার (১২ জুন) সকাল ৮টা ২০মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের বাইরে নারী ভোটারদের উপস্থিতি অনেক। ২৮৯ নম্বর কেন্দ্রের ৪ নং কক্ষের নারী ভোটার কারিমা বেগম অভিযোগ করেন, তিনি মেয়র এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ভোট দিতে পেরেছেন। কিন্তু সাধারণ আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীর ভোট দিতে গেলে মেশিন কাজ করছিল না। বিষয়টি প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদেরকে জানানো হলে তারা ছুটে আসেন। তবে একাধিকবার চেষ্টা করার পর তিনি ভোট দিতে পেরেছেন বলে জানান। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ধনঞ্জয় মজুমদার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অপরদিকে সকাল ৯ টা ৯ মিনিটে শিশু মেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, এই কেন্দ্রে পুরুষের উপস্থিতি কম। কেন্দ্রের একজন কাউন্সিলর এর নির্বাচনী এজেন্ট ইদ্রিস আলী অভিযোগ করেন, তার প্রার্থীর ছবি ও মার্কা মেশিনে আসছে না। এই অভিযোগ শুনার পর ২৮৬ নম্বর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. মুশফিকুর রহমান খোঁজখবর নেন। তবে এই বিষয়টির সত্যতা তিনি নিশ্চিত না করলেও বলেন, ওই কেন্দ্রের একটি কক্ষে ভোট শুরু হলে ইভিএম মেশিনের ফিঙ্গারপ্রিন্টের বাটন কাজ করছিল না। যে কারণে মেশিনটি পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সকাল ৯ টা পর্যন্ত তার কেন্দ্রে ১০০ টি’র মত ভোট পড়েছে। ইভিএম মেশিনের ত্রুটি সংক্রান্ত একই অভিযোগ করেন ভোটার মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ত্রুটির কারণে ভোট দিতে আধা ঘণ্টার মত দেরি হয়েছে। প্রসঙ্গত, আজ (সোমবার) সকাল ৮টা থেকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে ৫ মেয়র প্রার্থীসহ ১৮০ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। কেসিসি নির্বাচনে ৫জন মেয়র প্রার্থী, ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৩৬জন কাউন্সিলর প্রার্থী ও সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডে ৩৯জন নারী কাউন্সিলর প্রার্থীসহ মোট ১৮০জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে, কাউন্সিলর পদে সাধারণ ওয়ার্ডের দুজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। কেসিসির মেয়র প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা), জাতীয় পার্টির (জাপা) শফিকুল ইসলাম মধু (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল আউয়াল (হাতপাখা), জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন (গোলাপ ফুল) ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী এসএম শফিকুর রহমান (দেয়াল ঘড়ি) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের সূত্রে জানা যায়, কেসিসির মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৩ জন ও নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৬ জন। ভোটাররা ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের ১ হাজার ৭৩২টি কক্ষে ইভিএমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের জন্য ২৮৯জন প্রিজাইডিং অফিসার, ১ হাজার ৭৩২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৩ হাজার ৪৬৪ জন পোলিং অফিসারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রায় ৬ হাজার কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কেসিসি নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে খুলনা মহানগরীতে ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। গত শনিবার সকাল থেকে বিজিবি সদস্যরা ভোটকেন্দ্রসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি ৪ হাজার ৮০০ পুলিশ সদস্য, ৩ হাজার ৮৪৮জন আনসার সদস্য ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৮ হাজার সদস্যের সমন্বয়ে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে ফেলা হয়েছে পুরো খুলনা মহানগরীকে।