ঢাকা শহর অনেকটা ফাঁকা, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

এবারের ঈদুল ফিতরের ছুটি বুধবার (১৯ এপ্রিল) শুরু হয়েছে। ছুটি শুরুর আগেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা শুরু করেছেন ঢাকাবাসী। তাই আজ ২৯ রমজান (শুক্রবার) ঢাকা শহর অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেছে। তবে ফাঁকা এই শহরকে নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফাঁকা ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাসিন্দারা গ্রামে চলে যান। এ সময় সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা গ্রহণ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০ রমজানের পর থেকেই রাজধানীর বাসিন্দারা গ্রামে যাওয়া শুরু করেন। গতকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে অনেকেই ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। এ কারণেই ব্যস্ততম ঢাকা নগরী এখন প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। রাজধানীর পান্থপথ, কাওরান বাজার, মগবাজার, ফার্মগেট, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, তেজকুনি পাড়া, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মানুষের আনাগোনা একদম কম। এছাড়া পাড়া-মহল্লার বেশিরভাগ দোকান-পাটও বন্ধ রয়েছে। ঈদ উদযাপনের জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি চলে গেছেন অনেকেই। কথা হয় পশ্চিম তেজতুরী বাজারের দোকানি আব্দুর রাজ্জাকের সাথে। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন এই এলাকায় ব্যবসা করি। প্রতি বছর ঈদের তিন দিন আগে দোকানের কর্মচারীদের ছুটি দিয়ে দেই। এরপর আমিও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে বাড়ি চলে যাই। জামালপুরের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, গ্রামে ঈদ করতে অনেক ভালো লাগে। সেখানে সবার সাথে মন ভরে আড্ডা দেওয়া যায়। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়ি চলে যাই। কথা হয় কাওরান বাজার এলাকায় সুমন তালুকদার নামের একজনের সাথে। তিনি পেশায় মুচি। তিনি বলেন, সকাল থেকে আমি দোকান খুলে বসে আছি। কোনো ইনকাম নেই। কেন এমন অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের জন্য এলাকার অনেকেই গ্রামে চলে গেছে। আর যারা ঢাকায় রয়েছে, তাদের অফিস বন্ধ। মোহাম্মদপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাড়ির ম্যানেজার মনির মিয়া। তিনি জানান, তাদের ফ্ল্যাট বাড়ি থেকে বেশিরভাগ ভাড়াটিয়া গ্রামে চলে গেছে। এলাকা এখন বেশ নীরব। তাই মালিকের পক্ষ থেকে বাড়তি সর্তকতা অবলম্বন করা হয়েছে। রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোর মধ্যে একটি এলাকা ফার্মগেট। ছুটির দিন ছাড়া ওই এলাকায় লোকজনের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সেই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আগের মতো আর ব্যস্ততা নেই সেখানে। হাতেগোনা কয়েকজন বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। এদিকে, এবারের ঈদের ছুটিতে ঢাকা মহানগরে যারা থাকবেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত রোববার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপির পক্ষ থেকে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। সমন্বয় সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, র‌্যাব, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, হাইওয়ে পুলিশ, সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, জিএমপি, পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জ, নৌপুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নৌপরিবহন অধিদফতর, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থা, বিআইডব্লিউটিএ, দোকান মালিক সমিতি, বাসমালিক সমিতি, লঞ্চমালিক সমিতি, লঞ্চ শ্রমিক সমিতি, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল সংস্থা, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি, বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ কমিশনার ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের পবিত্র দায়িত্ব ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা এবং ঈদের ছুটিতে ঢাকা মহানগরে যারা থাকবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এসব বিষয় সামনে রেখেই নিরাপত্তার চাদরে ঢাকাকে সাজানো হয়েছে।