পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে সোমবার (৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কিছুটা বেড়ে ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
একইদিন (৬ এপ্রিল) শেষদিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৪ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ কমে ১০৮.৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.২ শতাংশ বা ১.৩৩ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ১১০.২১ ডলারে নেমেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি কাঠামোগত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এখনও বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উত্তেজনা অবসানের লক্ষ্যে একটি খসড়া পরিকল্পনা হাতে পেয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে আলোচনা জোরদার হয়েছে। Axios-এর তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য ৪৫ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ ধরনের কোনো চুক্তি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম বলেও উল্লেখ করা হয়েছে, যা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ভঙ্গুরতা তুলে ধরে।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, কোনো হামলা হলে তারা ইসরাইল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেবে। এতে করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, পাকিস্তান, মিশর এবং তুরস্ক মধ্যস্থতার মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগও চলছে।
এদিকে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস গত রবিবার আগামী মে মাসের জন্য দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জোটের মূল উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন বাড়াতে অক্ষম হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে রাশিয়ার তেল রপ্তানি টার্মিনালগুলো ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার শিকার হওয়ায় দেশটির তেল সরবরাহও সম্প্রতি চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে।