আজ মুখোমুখি বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামাবাদজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ঐতিহাসিক এই আলোচনাকে ঘিরে পুরো ইসলামাবাদ শহরজুড়ে এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে শহরটিতে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার।

এ ছাড়া মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।

তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর, ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী আকবর আহমাদিয়ান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেম্মাতিসহ প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা।

শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ‘আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি একটি প্রকৃত ও সম্মানজনক চুক্তির জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে ইরানও তাতে ইতিবাচক সাড়া দেবে। তবে দুর্ভাগ্যবশত, আমেরিকানদের সঙ্গে আমাদের আলোচনার অতীত অভিজ্ঞতা সব সময় ব্যর্থতা এবং প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে এই আলোচনায় তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে তিনি আশা করেন। তবে এই আলোচনা আগামী সপ্তাহগুলোতেও চলবে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প।

ওয়াশিংটন ডিসিতে এয়ার ফোর্স টুতে ওঠার সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তেহরানের সঙ্গে এই বৈঠক ‘ইতিবাচক’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ইরান যদি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা বা কূটচাল চালতে চায়, তবে তারা দেখবে যে এই আলোচক দলটি তাদের প্রতি মোটেও সহানুভূতিশীল হবে না।