‘সাইবার স্কোয়াড’ নামে গোপন গ্রুপে সক্রিয় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আ’লীগ

আওয়াীলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা ‘সাইবার স্কোয়াড’ নামের একটি গোপন গ্রুপ পরিচালনা করেন। গ্রুপটির মূল কাজই হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালানো। জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যার অভিযোগে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেয়া রায় নিয়ে কটূক্তি করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস প্রদানকারী এমএইচ পাটোয়ারি বাবু। গতকাল রোববার তাকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হলে এমন তথ্য দেন।

এমএইচ পাটোয়ারি বাবু ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। পেশায় তিনি সিভিল এভিয়েশেনের একজন ঠিকাদার। শেখ হাসিনার মৃত্যুদ- প্রদানের ঘটনায় এমএইচ পাটোয়ারি বাবু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে ফেসবুকে স্ট্যাটাসে বিরূপ মন্তব্য করেন। তার বিরুদ্ধে গত ৭ এপ্রিল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে গতকাল রোববার তিনি আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাকে দুই মাসের কারাদ- দেন বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজা নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তবে মানবিক বিবেচনায় তার স্ত্রী ইসমাত জেরিনকে ক্ষমা করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গতকাল আত্মসমর্পণ করেন। গত ৭ এপ্রিল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর গতকাল রোববার তিনি আত্মসমর্পণ করেন। এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে-মর্মে জানা গেছে।

এর আগে আদালত অবমাননার অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে পাটওয়ারি বাবুর বিরুদ্ধে গত ৭ এপ্রিল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে পোস্টে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ারকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
এমএইচ পাটোয়ারি বাবু তার ফেসবুক পোস্টে বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, ট্রাইব্যুনালের সাবেক চীফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী শিশির মনিরের ছবি জুড়ে দেন বাবু। ওই পোস্টে তিনি শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে নিজের মনগড়া ও মিথ্যা তথ্য তুলে ধরেন।

এমএইচ পাটোয়ারি বাবু ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। পেশায় তিনি সিভিল এভিয়েশেনের একজন ঠিকাদার।
আদেশ প্রদানকালে ট্রাইব্যুনাল তার পর্যবেক্ষণে বলেন, আসামির অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সাজা না দিলে ভুল বার্তা যাবে। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি যে, আমরা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ আছি। আমাদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দেশি-বিদেশি কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবেন না। যেহেতু এই পোস্টটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তাই তার ন্যূনতম সাজা হওয়া উচিত যাতে অন্যরা সতর্ক হয়।

এর আগে বাবু আত্মসমর্পণের পর বিকেল সাড়ে ৩টার পর এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। প্রথম বাবুর স্ত্রী ইসমাত আরার জবানবন্দি নেয়া হয়। তিনি অপরাধের জন্য নিজকেই দোষী সাব্যস্ত করেন। এ ঘটনার জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেন। ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে উভয় আসামির জবানবন্দি নেয়া হয়।

জবানবন্দিতে আসামি পাটোয়ারি বাবু নিজের ফেসবুক পেজ থেকে দেয়া বিতর্কিত পোস্টটি পড়ে শোনান। এ সময় তিনি দাবি করেন, অন্য একটি আইডি থেকে লেখাটি কপি করে তিনি নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছিলেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের উসকানিমূলক পোস্ট বা বক্তব্য দেবেন না বলে অঙ্গীকার করে। তিনিও ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

প্রসিকিউটর জোহা আদালতকে জানান, জব্দ করা মোবাইল ফোনটি বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছে। তবে তার ফেসবুক আইডিটি এখনও সক্রিয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা ‘সাইবার স্কোয়াড’ নামে একটি গোপন গ্রুপ পরিচালনা করেন। যার অন্যতম সক্রিয় সদস্য হচ্ছেন দ-িত বাবু। এই গ্রুপের মূল কাজই হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালানো।

শুনানিতে আসামিপক্ষে অংশ নেন অ্যাডভোকেট এমএ নোমান। অন্যদিকে, প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চীফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও মঈনুল করিমসহ অন্যরা।

শুনানি চলাকালে চীফ প্রসিকিউটর বলেন, আমাদের ট্রাইব্যুনাল নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের করুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তা সত্ত্বেও মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা এই আসামির জন্য নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন জানাচ্ছি।

আদেশ প্রদানকালে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আসামি কেবল একজন সচেতন নাগরিকই নন, তিনি একজন রাজনৈতিক নেতাও। তার অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে আমরা প্রথমে এক বছরের কারাদ- দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যেহেতু সবাই তার নিঃশর্ত মুক্তি চাইছেন, তাই সাজা কিছুটা কমানো হলো। পরে ট্রাইব্যুনাল আসামিকে তিন মাসের সশ্রম কারাদ- দেন। চীফ প্রসিকিউটরসহ অন্য প্রসিকিউটরদের বিশেষ অনুরোধে শেষ পর্যন্ত সাজা কমিয়ে দুই মাস নির্ধারণ করা হয়।