ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে নতুন করে নির্বাচনী রণকৌশল সাজাচ্ছে বিজেপি। এ লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই নেতৃত্বে নেমে রাজ্যে সরাসরি প্রচার ও সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন।
কলকাতার ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, ভোটের আগে প্রায় ১৫ দিন পশ্চিমবঙ্গে সময় কাটাবেন এবং ১৭৫টি আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের দিন সংগঠনকে কার্যকরভাবে পরিচালনার কৌশলই এবারের নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে।
এর আগে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক প্রচার চালালেও প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি বিজেপি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আরও পরিকল্পিতভাবে মাঠে নামছে দলটি।
অন্যদিকে রাজ্যের ক্ষমতাসীন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দল তৃণমূল কংগ্রেসও পাল্টা কৌশল সাজাচ্ছে। নির্বাচনী লড়াইয়ে ভাতা ও সামাজিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে বড় ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপিও একই পথে হাঁটছে, যেখানে তৃণমূলের চেয়ে বেশি অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে বিজেপির শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে শিলিগুড়ি ও বালুরঘাটকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে বেশি সময় দেবেন অমিত শাহ।
এদিকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ইস্যুও উঠে এসেছে নির্বাচনী প্রচারে। মাছ-মাংস নিয়ে বিতর্কে বিজেপির অবস্থান বদলানোর ইঙ্গিত মিলেছে, যা বাঙালি ভোটারদের মন জয় করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেস সামাজিক মাধ্যমে অমিত শাহকে স্বাগত জানিয়ে বাঙালি খাবারের তালিকা প্রকাশ করে সূক্ষ্ম রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত লড়াইয়েও রূপ নিয়েছে।