হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করা এবং তাদের অভিজ্ঞতা উন্নত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এ বিষয়ে মক্কা সিটি ও পবিত্র স্থানগুলোর রয়্যাল কমিশন–এর প্রধান নির্বাহী সালেহ আল-রাশিদ জানান, প্রকল্পটির কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বে বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হবে। একইসঙ্গে কিং আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এর কার্যক্রম যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।
বর্তমানে মক্কায় পৌঁছাতে হলে জেদ্দা হয়ে ৮০–৯০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। নতুন বিমানবন্দর চালু হলে এই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এদিকে মক্কায় মেট্রো প্রকল্পের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক নকশা সম্পন্ন হয়েছে। বাস্তবায়িত হলে পবিত্র স্থানগুলোর মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে।
‘স্মার্ট মক্কা’ উদ্যোগের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে জামারাত সেতু–এর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভিড় নিয়ন্ত্রণে পূর্বাভাসভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
শহরের পরিবহন ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছে। বর্তমানে ১২টি রুটে প্রায় ৪০০ বাস নিয়ে মক্কার বাস নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে, যা শতাধিক স্টপেজ ও কেন্দ্রীয় স্টেশনকে সংযুক্ত করেছে। পাশাপাশি চালু হয়েছে ‘মক্কা ট্যাক্সি’ সেবা, যেখানে আধুনিক যানবাহন, ট্র্যাকিং ও ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সুবিধা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব উন্নয়ন প্রকল্প বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে এবং হজযাত্রীদের সন্তুষ্টির হার ৯০ শতাংশের বেশি উন্নীত করতে সহায়তা করবে। বিমানবন্দর ও মেট্রো প্রকল্প ভবিষ্যতে মক্কার যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।