আ. লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে বিএনপির ২ সমর্থক নিহত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ধামাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে সরকারি খাস পুকুর থেকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন।

আজ সোমবার (২ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের মৃত মনছের আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৭০) ও একই গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৫৫)। এ ঘটনায় আহতদের নাম ও পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রায়গঞ্জের ধামাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের সোরহাব আলী প্রামাণিকের বসতবাড়ির দক্ষিণের সরকারি ৫ বিঘা খাস পুকুর নিয়ে গোয়ালপাড়া গ্রামের মৃত নজর উদ্দিনের ছেলে আওয়ামী লীগ সমর্থক আছমত আলীর সঙ্গে ধামাইনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নাকাটি বটতলা গ্রামের ময়দান উদ্দিনের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিতের সরকারি খাস পুকুর নিয়ে গত ১৫/১৬ বছর ধরে বিরোধ চলছিল। গত ১৫/১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সমর্থক আছমত আলী পুকুরটি গোয়ালপাড়া মসজিদের নামে লিজ নিয়ে মাছ চাষা করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপিরপন্থী আবু বক্কর সিদ্দিক পুকুরটি ৩ বছরের জন্য লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। এদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আবু বক্কর সিদ্দিক তার লোকজন নিয়ে মাছ মারার জন্য পুকুরে জাল ফেললে আছমত আলীর লোকজন এসে বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় উভয় পক্ষই ধারালো অস্ত্র, হাসুয়া, দা, লাঠি সোটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা করে। এতে আছমতের পক্ষের ৪ জন এবং আবু বক্কর সিদ্দিকের পক্ষের ৭ জন গুরুতর আহত হয়। এ সময় ৯৯৯-এ কল পেয়ে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। দুপুর ২টার দিকে আবু বক্কর সিদ্দিকের পক্ষের ইসমাইল হোসেন (৭০) শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও আব্দুস সালাম (৬০) সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

এ বিষয়ে মাধাইনগর ইউনিয় বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রমজান আলী বলেন, নিহত দুই ব্যক্তি বিএনপির সমর্থক ছিলেন

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।