ছেঁউড়িয়ায় সাদামাটা লালন স্মরণোৎসব শেষ হচ্ছে আজ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের বার্ষিক স্মরণোৎসব গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। গতকাল আলোচনাসভা ও আগত বাউলদের সেবার মাধ্যমে তা শুরু হয়। লাখ লাখ ভক্ত অনুসারীর উপস্থিতিতে প্রতিবছর বাউল গানের আসর, গ্রামীণ মেলা ও আলোচনাসভার মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী লালনের এই স্মরণোৎসবের আয়োজন হয়ে আসছিল। তবে এবার সীমিত পরিসরে এই উৎসব হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গতকাল দুপুরে ছেঁউড়িয়ার লালন অডিটরিয়ামে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। লালন একাডেমির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন তাতে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। মুখ্য আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. রাশিদুজ্জামান, বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

আলোচনাসভায় কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, লালন ছিলেন জাতিগত বিভেদ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে। তাঁর গানের অন্তর্নিহিত দর্শন মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে।

লালন আখড়াবাড়ির ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান রিপন জানান, সরকারি অনুষ্ঠানের পর গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় আমরা মুড়ি দিয়ে আগত ভক্তদের রাখালসেবা দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু করি। এরপর রাত ১২টায় খিচুড়ি দিয়ে অধিবাসসেবা এবং পরদিন সকাল ৬টায় পায়েস দিয়ে বাল্যসেবা ও দুপুরে ভাত, মাছ, সবজি, ডাল, দইসহ পাঁচ পদের খাবার দিয়ে আগত সাধু ভক্তদের মাঝে পূর্ণসেবা প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ করা হবে।

গান বাজনা ও মেলা না থাকায় গতবারের তুলনায় এবার লোক সমাগম অনেক কম হয়েছে।

আধ্যাত্মিক সাধক বাউল ফকির লালন সাঁই তাঁর জীবদ্দশায় দোলপূর্ণিমার রাতে শীষ্যদের নিয়ে একটি উৎসব পালন করতেন। ১৮৯০ সালে সাঁইজির মৃত্যুর পর থেকে তাঁর ভক্তানুরাগীরা আখড়া বাড়িতে এই উৎসব পালন করে আসছেন। এবার কোনো মেলা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান না থাকলেও শুধু বাউল সাধুদের ভাব বিনিময়, গুরুকার্য ও আপ্যায়নের মাধ্যমে এ আয়োজন শেষ হচ্ছে।