কায়সার হামিদ মানিক,
কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং মাদক সম্রাট জুবাইরের কোটি টাকার সাম্রাজ্য উন্মোচন করে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) ৮ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ইয়াবা, বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, ওয়াকিটকি ও দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আটককৃতরা হলেন সাবরাং মন্ডলপাড়া মো. জুবাইরের স্ত্রী ফাইজা আক্তার (১৯), মৌলভীপাড়া আবুল কালামের পুত্র আইয়ুব আলী (৩৭)।
১৬ অক্টোবর রাত থেকে ১৭ অক্টোবর ভোররাত পর্যন্ত চলে শ্বাসরুদ্ধকর এ অভিযান।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান পিএসসি বলেন, টেকনাফ ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাবরাং মন্ডলপাড়া গ্রামে মাদক কারবারের মূলহোতা মো. জুবাইর-এর সন্ধান পায় ২ বিজিবি। গোপন তথ্যে নিশ্চিত হওয়া যায় জুবাইরের বিলাসবহুল ও সুরক্ষিত বাড়িটিই মাদক মজুত ও বিপণন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। টেকনাফের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁর সরাসরি নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক বিজিবি সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ২ বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ১৬ অক্টোবর রাতে রহস্যময় আলীশান বাড়িটিকে ঘিরে ফেলে অভিযান শুরু করে। মাদক চক্রের আস্তানায় প্রায় ৮ ঘণ্টাব্যাপী কঠোর ও নিরলস তল্লাশি চালায় বিজিবি। অভিযান চলাকালে হটপটের ভিতরে লুকায়িত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে দেওয়াল টপকে পালানোর সময় আইয়ুব আলীকে (৩৭) গ্রেফতার করা হয়। একইসাথে বাড়ির অভ্যন্তরে আত্মগোপন করে থাকা মূলহোতার স্ত্রী ফাইজা আক্তার (১৯) কেও আটক করা হয়। দীর্ঘসময় ধরে চলা এই মাদক বিরোধী অভিযানে বিজিবি সদস্যদের অদম্য ধৈর্য এবং পেশাদারিত্বের ফলে বাড়ির বিভিন্ন গোপন কুঠুরি থেকে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা সর্বমোট ১৯ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদক বিক্রয় ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহিংস চক্রটির ব্যবহৃত ৭টি চাপাতি এবং ৪টি চাকুসহ মোট ১১টি দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়। তাছাড়া বাড়ির ভেতরে ও বাইরে মাদক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত ২টি ওয়াকিটকি সেট এবং ৪টি সার্ভেল্যান্স সিসি ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও মাদক বিক্রয় হতে প্রাপ্ত নগদ ১০ লাখ ৩০ হাজার নগদ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণাদি জব্দ করা হয়েছে। তল্লাশির একপর্যায়ে বাড়ির ভেতর থেকে মাদকদ্রব্য প্যাকেজিং এর জন্য ব্যবহৃত মেশিন এবং গোপনে ইয়াবা পরিবহন করার জন্য বিশেষভাবে প্রস্ততকৃত মোটরসাইকেলের দুইটি তেলের ট্যাংক উদ্ধার করা হয়। তবে মাদক কারবারী চক্রের মূল হোতা মো. জুবাইর (৪০) এখনও পলাতক থাকলেও তাকে দ্রæত আইনের আওতায় আনতে বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানায় দায়েরকৃত মাদকের মামলা রয়েছে। জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা ট্যাবলেট-১৯ হাজার ২০০ পিস, ইয়াবা পাউডার- ১৩০ গ্রাম, নগদ টাকা ১০ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ল্যাপ্টপ ১টি, চাকু ৪টি, চাপাতি ৭টি, ওয়াকিটকি সেট ২টি, মাইক্রোফোন ১টি, এন্ড্রোয়েট ফোন ২টি, বাটন ফোন ৩টি, পিতলের পাল্লা ১টি, ল্যান্ড ফোন ১টি, সিসি ক্যামেরা ৪টি, মোটর সাইকেলের তেলের ট্যাংক ২টি। মাদক ব্যবসায়ীরা যত শক্তিশালী চক্রই হোক, দেশের মাটি থেকে মাদক চোরাচালানের কালো ছায়া সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলার জন্য বিজিবি’র সকল সদস্য সদা প্রস্তত ও অঙ্গীকারাবদ্ধ। এই নিরলস পরিশ্রম মাদকমুক্ত টেকনাফ গড়ার প্রত্যয়কে আরও মজবুত করবে। আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের পূর্বক টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলায় সাবরাং মন্ডলপাড়া ফজল হকের পুত্র মো. জুবাইরকে (৪০), পলাতক আসামী করা হয়েছে।