৪০ বছর পর ছেলের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে যাচ্ছেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী

প্রায় ৪০ বছর ধরে কম্বোডিয়া শাসন করছেন হুন সেন। আগামী রোববার দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ রকম সময়ে বড় ছেলে হুন মানেতের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী হুন সেন। তবে কবে নাগাদ তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় হুন সেন প্রভাব রাখবেন বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কম্বোডিয়ায় বিরোধী দলগুলো প্রায় নেই বললেই চলে। সেখানে আগামী রোববারের নির্বাচন একটি প্রহসনমূলক নির্বাচন হবে এবং হুন সেনের দলই ক্ষমতায় আসবে বলে মনে করেন সমালোচকেরা। জাতিসংঘ বলেছে, দেশটিতে গণতন্ত্রের অবস্থা খুবই দুঃখজনক। ৪৫ বছর বয়সী হুন মানেত বর্তমানে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চলতি মাসেই এক সমাবেশে হুন সেন তাঁর বড় ছেলে হুন মানেতের হাতে ক্ষমতাসীন কম্বোডিয়ান পিপলস পার্টির (সিপিপি) দলীয় পতাকা তুলে দেন। এরপর থেকে তিনি সিপিপি কর্মীদের নিয়ে সারা দেশে গণসংযোগ করছেন এবং তাঁর পিতার উন্নয়ন প্রচার করছেন।

গত মাসের শেষের দিকে নমপেনে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনেই হুন সেন সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আমি এখনো কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী। আর আমার ছেলে হবে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ফিল রবার্টসন এএফপিকে বলেছেন, কম্বোডিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দেশটিতে প্রকৃত গণতন্ত্র এখনো অধরা।

হুন সেনের পাঁচ সন্তান রয়েছে। তিনি তার তিন পুত্রকেই রাজনীতির মাঠে নামিয়েছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো বড় ছেলে হুন মানেতের হাতে অর্পণ করেছেন। হুন মানেত ইতিমধ্যেই সিপিপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন।

হুন মানেতের বাবা হুন সেন ১৯৮৫ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর থেকে তিনি টানা ৩৮ বছর ধরে কম্বোডিয়া শাসন করছেন।

পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত হুন মানেত বাবার চেয়ে উদার হবেন কিনা সে ব্যাপারে শংসয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা। সেবাস্তিয়ান স্ট্র্যাঞ্জিও নামের একজন লেখক বলেছেন, বাবার চেয়ে উদার ও গণতন্ত্রমনা হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো তাঁর মধ্যে দেখা যায়নি।