সৌদি আরবে যুদ্ধ বিমান পাঠালো পাকিস্তান

ইরান যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ইসলামাবাদে ডেকে আলোচনা করছে পাকিস্তান। এরই মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে নিরাপত্তা জোরদার করতে পাকিস্তান সৌদি আরবে যুদ্ধ বিমান ও অন্যান্য সামরিক বাহিনী পাঠিয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানায়।

সাম্প্রতি উপসাগরীয় এই রাজ্যে ইরানের একাধিক হামলার পর এই যুদ্ধ বিমান পাঠানো হলো। ইরানের ওই হামলায় সৌদির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রিয়াদ ও ইসলামাবাদ একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে বলা হয়—দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর আক্রমণ হলে সেটিকে উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হয়।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমান দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কিং আবদুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে।

তারা আরও জানায়, এই মোতায়েনের লক্ষ্য হলো যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সমর্থন করা।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে, যার মধ্যে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক মোতায়েনও রয়েছে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে সৌদি আরব বারবার পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান শুক্রবার পাকিস্তানে সফর করেছেন, যা দেশটির প্রতি অর্থনৈতিক সমর্থন প্রদর্শনের অংশ বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

২০১৮ সালে সৌদি আরব পাকিস্তানের জন্য ৬ বিলিয়ন ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করে, যার মধ্যে ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৩ বিলিয়ন ডলার জমা এবং বিলম্বিত পরিশোধের শর্তে ৩ বিলিয়ন ডলারের তেল সরবরাহ।

সূত্র: রয়টার্স