গাছের বন্ধু বাদশা “একমুঠো ভাত নয়, একমুঠো অক্সিজেন চাই”

বাদশা মিয়া দিনমজুরি করে যা আয় করেন, তার তিনভাগ দিয়ে সংসার চালান, আর এক ভাগ দিয়ে কেনেন গাছের চারা। নিজের কৃষি জমি নেই। মাত্র চার শতক জমির ওপর রয়েছে তাঁর টিনের বাড়ি।
২০ বছর ধরে দিনমজুরির আয়ের চার ভাগের এক ভাগ দিয়ে চারা কিনে তিনি শানেরহাট-বড়দরগা পিচঢালা সড়কসহ বিভিন্ন পথের ধারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে, হাটবাজারে এবং মসজিদ ঈদগাহ ও গ্রামের নানা জায়গায় নানা প্রজাতির গাছ লাগিয়ে মানুষের মন জয় করেছেন। তাঁর লাগানো গাছের ফল এখন মানুষ খায়। গল্প আড্ডায় মেতে উঠে তাঁর লাগানো গাছের ছায়ায় বসে। স্ত্রী মিনারা বেগম স্বামীর গাছ লাগানো কাজে সব সময় উৎসাহ দেন।
এলাকার মানুষ ভালোবেসে তাঁর নামের আগে জুড়ে দিয়েছেন গাছের বন্ধু উপাধি। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের মেষ্টা গ্রামের বাদশাকে মানুষ এখন ‘গাছের বন্ধু বাদশা’ নামে ডাকেন।
মেষ্টা গ্রামের ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন জানান, শুরুতে গ্রামের অনেকেই বাদশাকে ‘পাগল’ বলে উপহাস করতেন। কটু কথা বলতেন। সেসবে মন খারাপ না করে উল্টো তাদের বুঝিয়েছেন গাছের উপকারিতার কথা। এখন সবাই তাঁর পাগলামির সুফল ভোগ করছেন।
৭২ বছর বয়সী বাদশা মিয়া এখনও প্রতি শুক্রবার বাইসাইকেলের পেছনে গাছের চারা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। যে কোনো এক মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের পর গাছের উপকারিতা সম্পর্কে লোকজনকে ধারণা দেন। গাছের চারা উপহার দিয়ে সবাইকে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন।
টাকার অভাবে ২০০৪ সালের নভেম্বরে নিজের দুই সন্তানকে কাঁঠাল কিনে খাওয়াতে পারেননি তিনি। সেই কষ্ট থেকে গরিব প্রতিবেশীর সন্তানদের কথা চিন্তা করে পরের বছর সড়কের দুই ধারে ১৫০টি গাছ আম কাঁঠালের লাগান। সেসব গাছের গোড়ায় খুঁটি দিয়ে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়লে মেয়ের কানের সোনার রিং বিক্রি করে খুঁটি দিয়েছিলেন তিনি।
বাদশা মিয়ার এই মহতি কাছের প্রশংসা করে শানেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান বলেন, সরকারি রাস্তায় গাছ লাগিয়ে বাদশা মিয়া গরিব মানুষের মুখে ফল তুলে দিচ্ছেন। পথচারীদের বিশ্রামের জন্য গাছের নিচে বাঁশের টং তৈরি করে দিয়েছেন।
বাদশা মিয়া তাঁর গাছ লাগানো অভিযানের স্লোগান দিয়েছেন “একমুঠো ভাত নয়, একমুঠো অক্সিজেন চাই”। নিজের গ্রামে ছাড়াও আশপাশের ১৫ গ্রামে এ পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি আম, জাম, কাঁঠাল, আমড়া, লিচু, পেয়ারা, নারকেল, খেজুর, চালতা, কামরাঙা, বেল, আতাগাছ লাগিয়েছেন বাদশা মিয়া।