নাটোরের বড়াইগ্রামে কৃষি শ্রমিক মোবারক হোসেন হত্যা মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছর করে স্বশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক।
আজ রোববার বেলা ১২টার দিকে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত-৪ এর বিচারক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলের–আরিফা খাতুন, আসাদুল ইসলাম, আব্দুর রশীদ ও জিহাদ আলী। নাটোর জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বরাত দিয়ে এই আইনজীবী জানান, বড়াইগ্রাম উপজেলার ইকড়ি গ্রামের মোবারক হোসেন ২০২০ সালের ১৫ জুন বাড়ির পাশের বেড়ি বিলে পটলের জমিতে কাজ করতে যান। এরপর মোবারক দুপুরে একই এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে খাওয়া শেষ করে পুনরায় বিলে জমিতে চলে যান। এদিকে বিকেল শেষে সন্ধ্যা হতে চললেও মোবারক বাড়িতে ফিরে না আসলে তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিলে খোঁজাখুজি শুরু করেন।
খোঁজাখুজির একপর্যায়ে সন্ধ্যার পর বিলের মধ্যে থেকে মোবারক হোসেনের হাত পা পাট দিয়ে বাধা অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে ঘটনাটি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় নিহত মোবারক হোসেনের স্ত্রী মোছা. রানী বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে বড়াইগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতিবেশী আরিফা খাতুনকে আটক করে।
জিজ্ঞাসাবাদে আরিফা খাতুনের স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসাদুল ইসলাম, আব্দুর রশীদ ও জিহাদ আলীর নাম প্রকাশ করে। পরে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ও এবং তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী নিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর মামলার স্বাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালতের বিচারক আজ অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণায় বাদী পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।