সম্প্রতি, সাপ্তাহিক এক ব্রিফিংয়ে আনোয়ার গারগাশ জানান, আমিরাত যুদ্ধের অবসান চায়, তবে তা যেন কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি না হয়। তিনি বলেন, আমরা এমন কোনো চুক্তি চাই না যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মতো মূল সমস্যাগুলোকে আড়ালে রেখে দেয়। এগুলো সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্য আরও বেশি বিপজ্জনক ও অস্থির হয়ে উঠবে।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। গারগাশের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা কেবল আঞ্চলিক বিষয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো দেশই এই জলপথকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা যেকোনো শান্তি চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ইরানকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে চুক্তি না করলে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে তেহরানে ‘নরক’ নামিয়ে আনা হবে। অন্যদিকে, গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।
ইরানের এই কৌশল আরব দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরানোর বদলে উল্টো ওয়াশিংটনের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেন গারগাশ।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রই আমিরাতের প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে থাকবে। এছাড়া আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরিশেষে তিনি বলেন, আমিরাত ইরানের সাথে শত্রুতা চায় না, তবে বর্তমান তেহরান সরকারের ওপর আস্থা রাখা অসম্ভব। তাদের এই ধ্বংসাত্মক নীতি কেবল শাসকগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য, দেশের মঙ্গলের জন্য নয়।