আল্লাহ চাইলে জ্ঞান কেড়ে নিতে পারেন

কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৮৬

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে   

وَ لَئِنۡ شِئۡنَا لَنَذۡهَبَنَّ بِالَّذِیۡۤ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡكَ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ بِهٖ عَلَیۡنَا وَكِیۡلًا ﴿ۙ۸۶﴾

সরল অনুবাদ

৮৬. আর আমি ইচ্ছা করলে আপনার কাছে ওহীর মাধ্যমে যা পাঠিয়েছি তা অবশ্যই নিয়ে নিতে পারতাম; অতঃপর আপনি এ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে আপনার জন্য কোনো কর্মবিধায়ক পেতেন না।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা বনি ইসরাঈলের আলোচ্য আয়াতটিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে মানুষকে যতটুকুই জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তা-ও তার ব্যক্তিগত জায়গীর নয়। আল্লাহর তাআলা ইচ্ছা করলে তাও ছিনিয়ে নিতে পারে। কাজেই বর্তমান জ্ঞানের জন্য তার কৃতজ্ঞ থাকা এবং অনর্থক ও বাজে গবেষণায় সময় নষ্ট না করা উচিত।

বিশেষত যখন উদ্দেশ্য গবেষণা করা নয়; বরং অপরকে পরীক্ষা করা ও লজ্জিত করাই উদ্দেশ্য হয়। মানুষ যদি এরূপ করে, তবে এই বক্রতার পরিণতিতে তার অর্জিত জ্ঞানটুকু বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া আশ্চর্য নয়।

এ আয়াতে যদিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হয়েছে, কিন্তু আসলে উম্মতকে শোনানোই উদ্দেশ্য; অর্থাৎ রাসুলের জ্ঞানও যখন তার ক্ষমতাধীন নয়, তখন অন্যের তো প্রশ্নই উঠে না। আয়াতে আরেকটি দিকে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে, তা হলো, এ কুরআন ওহী হিসেবে আপনার কাছে আসে।

আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন তাহলে তিনি যা এসেছে তা-ও প্রত্যাহার করে নিতে পারেন। সহিহ হাদিসে এসেছে যে, বাস্তবিকই কিয়ামতের পূর্বে আল্লাহ্ তায়ালা এ কোরআনকে মানুষের মন ও কিতাবের পাতা থেকে উঠিয়ে নেবেন। (সুন্নান ইবনে মাজাহ, হাদিস :  ৪০৪৯)