ইসলামের জন্য ইবনে হুজাইফা (রা.) এর আত্মত্যাগ

ইসলাম এমন এক চিরন্তন সত্যের ধর্ম, যা মানবজাতিকে ন্যায়, শান্তি ও মুক্তির পথে দেখিয়েছে। কিন্তু এই সত্যের পথে চলা সবসময় সহজ ছিল না; বরং যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল ও সাহাবায়ে কেরাম অসীম ত্যাগ ও কষ্ট সহ্য করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের বদৌলতেই আমরা পেয়েছি আজকের ইসলাম। 

তাদেরই অন্যতম হলেন সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে হুজাইফা রা.।

তিনি রোম সম্রাটের হাতে বন্দী হলেন। একান্তে ডেকে সম্রাট প্রলোভন ছুড়ে দিলেন, ‘খৃস্টান হয়ে যাও। প্রতিদানে আমার এ বিশাল ভূখণ্ডের অর্ধেক তুমি পাবে।’ ইবনে হুযাফার মনে সামান্য চাঞ্চল্যও সৃষ্টি হল না।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় উত্তর দিলেন-অর্ধেক রাজত্ব নয়, তোমার পুরো রাজত্ব এবং তার সাথে বিশাল আরব সাম্রাজ্যও যদি আমার হাতের মুঠোয় ভরে দেওয়া হয় তবুও এক পলকের জন্য মুহাম্মাদ (সা.)-এর আনীত দ্বীন থেকে সামন্য পরিমানও বিচ্যুত হব না। তখন সম্রাটের আদেশে একটি বিশাল পাত্রে পানি ফুটানো হল। ইবনে হুযাফার চোখের সামনে একে একে দুজন মুসলিম কয়েদীকে নির্মমভাবে পানিতে নিক্ষেপ করে শহীদ করা হল। তাদের পরিণতি দেখিয়ে পুনরায় তাকে খৃস্টধর্ম গ্রহন করে আকর্ষনীয় অফার লুফে নেয়ার সুযোগ দেওয়া হল।
কিন্তু তিনি আগের মতোই তা প্রত্যাখ্যান করলেন। 

এবার সম্রাট তাকে ফুটন্ত পানিতে নিক্ষেপ করার আদেশ দিলেন। ডেগচির সামনে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি মৃদু কাঁদলেন। সম্রাট ভাবলেন, সে হয়তো ভয়ে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে চাইছে। কাছে ডেকে আবারও প্রস্তাব পেশ করলেন।

কিন্তু এবারও তিনি প্রত্যাখ্যান করলেন। সম্রাট প্রশ্ন করলেন, তাহলে তুমি কাঁদলে কেন? ইবনে হুযাফা (রা.) বললেন, ডেগের কাছাকাছি যাওয়ার পর আমি ভাবলাম, হায়! কিছুক্ষণ পরই আমার প্রাণপাখি উড়ে যাবে। হায়! আমার শরীরে যতগুলো লোম আছে সে পরিমাণ প্রাণ যদি আমার থাকত তবে একে একে সবগুলোই আমি আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করতাম। এ ভাবনা আসতেই আমার দু চোখ ভিজে উঠেছিল। (সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২/১৪) 

সাহাবিদের এসব আত্মত্যাগ আমাদের শেখায় যে, সত্যের পথে অবিচল থাকা কখনো কখনো কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করে, কিন্তু এর প্রতিদান মহান ও চিরস্থায়ী। তাই আমাদের উচিত তাদের আদর্শ ধারণ করে সকল প্রতিকূলতার মাঝেও ঈমানের প্রশ্নে অটল-অবিচল থাকা, আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সবার আগে প্রাধান্য দেয়া।