বিবৃতিতে আবদুল মালেক বলেছেন, ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নে লক্ষ্যে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আসছে। প্রতিটি জেলায় যারা কর্মরত আছেন মনেপ্রাণে পে স্কেলের প্রত্যাশা করেন, তারা সবাইকে এই পে স্কেলের দাবি বাস্তবায়নের জন্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত করে, ১৫ বছরের মধ্যে তিনটা টাইম স্কেল ও একটা সিলেকশন গ্রেড প্রথা বাতিল করে ব্লক পোস্টধারী ও পদোন্নতি বঞ্চিতদের করেছেন সর্বশান্ত। তদস্থলে দুইটি উচ্চতার গ্রেড প্রথা চালু করেছেন ১৬ বছরে, যা শুধুই শুভঙ্করের ফাঁকি।
তিনি আরও বলেন, ২০১৫-২৪ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পে স্কেল বাস্তবায়ন করেনি তৎকালীন সরকার, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সাথে বেতন সমন্বয় করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করেননি ওই সময়। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্মচারীদের দাবির প্রেক্ষিতে নবম জাতীয় পে কমিশন গঠন করে একটি সুপারিশ প্রণয়ন করে, যা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি বলেন, দেশের সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চললেও যখনই সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে কথা ওঠে, ঠিক তখনই সেই দাবিকে দাবিয়ে রাখার জন্য মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক দুরবস্থা আরো অনেক কিছু সামনে নিয়ে আসা হয়। অথচ ১১ বছরে বেতন বাড়েনি, কিন্তু বেড়েছে প্রতিটি পণ্যের মূল্য, তখন কি অর্থনৈতিক অবস্থায় প্রভাব পড়েনি? তখন কি মূল্য স্মৃতির পরিবর্তন হয়নি?
সরকারি কর্মচারীরা রাষ্ট্রের একটি বিরাট অংশ যারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সরকারকে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাজে রাষ্ট্রকে গতিশীল করার লক্ষ্যে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে আবদুল মালেক বলেন, দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী হওয়ায় দিশেহারা ২২ লাখ পরিবার। এমনও দেখা গেছে অফিস শেষ করে কিংবা ছুটির দিনে সরকারি কর্মচারীরা অটোরিকশা হকারি এমনকি চায়ের দোকান করতে দেখা গেছে শুধু পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেয়ার জন্য, যা একটি দেশের প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে লজ্জার।
তিনি বলেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৯ম পে স্কেলের বরাদ্দ রেখে তা আংশিকভাবে হলেও বাস্তবায়ন করার দাবি পরিবার তথা প্রতিটি কর্মচারীর। গণ কর্মচারীর এ প্রত্যাশা পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে দেওয়া ওয়াদা কতটুকু রক্ষা করেন বা কি পদক্ষেপ নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।