ঢাকার কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীর তৈলঘাটে বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া ওয়াটার বাসটি উদ্ধার করে তীরে আনা হয়েছে। ডুবে যাওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর বাসটি টেনে তুলল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ ‘রুস্তম’।
আজ সোমবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে ওয়াটার বাসটি নদীর তলদেশ থেকে টেনে তীরে আনা হয়। এর আগে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করে ‘রুস্তম’।
গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদরঘাট শ্যামবাজার থেকে কেরানীগঞ্জের তৈলঘাটে যাওয়ার পথে বুড়িগঙ্গা নদীর অংশে বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় ওয়াটার বাসটি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট, কোস্ট গার্ড, বিআইডব্লিউটিএসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। এ ঘটনায় নারী-শিশুসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে কেবল দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার ও জীবিতদের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গতকাল দিবাগত রাত ১টার দিকে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ হাসনাত এক ফেসবুক পোস্টে জানান, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও নৌপরিবহন সচিব গোলাম মোস্তফা সার্বক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজের খোঁজখবর নিচ্ছেন। এ ছাড়া বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফাসহ বিআইডব্লিউটিএ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কাজ তদারকি করছেন।