পশ্চিমা বিরোধী হিসেবে পরিচিত হলেও এবার উল্টো পথে চলছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। গত সপ্তাহেই তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেন। খবর বিবিসির।
ফিনল্যান্ডকে শুরুতে ন্যাটোর সদস্য হওয়ার পথে কাঁটা হয়ে থাকলেও শেষমেশ সরে দাঁড়ান। তবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটটিতে সুইডেন যেন সদস্যপদ না পান-এ জন্য ঘোর বিরোধী ছিলেন এরদোয়ান। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে গত সোমবার আচমকা ঘোষণা করেন, সুইডেনের অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে তার দীর্ঘকালের আপত্তি তুলে নিচ্ছেন তিনি।
তার আকস্মিক এ ঘোষণায় ন্যাটোর মিত্ররাই অবাক বনে যায়। এরদোয়ানের এ দ্রুত কৌশল পরিবর্তন এমন এক সময়ে ঘটল যখন তিনি তুরস্কের দীর্ঘ এবং ক্রমাবনতিশীল অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান খুঁজছেন।
বিবিসি বলছে, এরদোয়ানের দ্রুত এমন সিদ্ধানের পরিবর্তন থেকে বোঝা যায়, তিনি এখন পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক মেরামত করতে কতটা ব্যগ্র। দেশটির অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য গত কয়েক বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তুরস্ককে পরিত্যাগ করেছিল। তাই এরদোয়ান এখন চাচ্ছেন বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে।

আংকারা-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাদিক ইনস্টিটিউটের একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বাতু কোসকুন বলেন, এই হচ্ছে ‘ক্লাসিক’ এরদোয়ান, যেখানে নীতি বা কথার সুর অকস্মাৎ বদলে যেতে পারে কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই। এরকম একটা ইউটার্ন নিলে অন্য যে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে ভুগতে হতো, কিন্তু এরদোয়ানে কোণ সমস্যাই হচ্ছে না।
এর কারণ তার এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের প্রতিদান হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সবার কাছ থেকেই কিছু অঙ্গীকার আদায় করে নিয়েছেন।
দেশের ভেতরে এখন এরদোয়ানের জন্য জরুরি চ্যালেঞ্জ হলো তুরস্কের নেতিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা। গত মে মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত তুরস্কের নির্বাচনের ঐতিহাসিক দ্বিতীয় রাউন্ডে এরদোয়ানের বিজয়ের সময় এটা ছিল সবচেয়ে বড় ইস্যু।
২০২২ সালের অক্টোবরে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি উঠেছিল ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশে। এখন সেটা কমে ঠিক ৪০ শতাংশের নিচে ঘোরাফেরা করছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে তুর্কি মুদ্রা লিরার মুল্যমান রেকর্ড পরিমাণ নেমে গেছে।