চলে গেলেন কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান

দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাস যত দিন থাকবে, তত দিন মাহবুবা রহমানও থাকবেন। কেননা বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ [১৯৫৬]-এর গায়িকা তিনি। নন্দিত এই শিল্পী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চলে গেছেন না-ফেরার দেশে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।

খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন তাঁর কন্যা রুমানা ইসলাম। তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে ৭ মার্চ তাঁর মাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।

মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে জানাজা শেষে গতকাল বিকেলে তাঁকে সমাহিত করা হয় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।

মাহবুবা রহমানের জন্ম ১৯৩৫ সালে। ছোটবেলা থেকেই সুরের চর্চা। মাত্র ১২ বছর বয়সে অল ইন্ডিয়া রেডিওর ঢাকা কেন্দ্রে তাঁর গান প্রচারিত হয়েছিল।গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে রেডিও-চলচ্চিত্রের অন্যতম গায়িকা ছিলেন তিনি। পল্লীগীতি ও আধুনিক গানে অনন্য শিল্পী মাহবুবা। ‘মুখ ও মুখোশ’-এ তাঁর কণ্ঠে ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি তাঁকে পরিচিতি এনে দেয়।

‘জাগো হুয়া সাভেরা’, ‘আসিয়া’, ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘যে নদী মরুপথে’, ‘কখনো আসেনি’, ‘সূর্যস্নান’, ‘সোনার কাজল’, ‘রাজা সন্ত্রাসী’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘সাত ভাই চম্পা’সহ বহু চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন মাহবুবা রহমান। তাঁর কণ্ঠে শ্রোতানন্দিত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’, ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’, ‘আমার গলার হার খুলে নে ওগো ললিতে’, ‘বৈদেশি নাগর’, ‘যাইও না যাইও না বৈদেশে যাইও না’, ‘আগুন জ্বালাইস না আমার গায়’ ইত্যাদি।সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৮ সালে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন মাহবুবা রহমান। চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমানের সহধর্মিণী ছিলেন তিনি।