অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে অবস্থিত এই পবিত্র ধর্মীয় স্থানটি ভোরে উন্মুক্ত করার পরপরই শত শত ফিলিস্তিনি সেখানে প্রবেশ করেন।
সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর একজন সংবাদদাতা মাঠপর্যায়ে জানিয়েছেন, আজ ফজরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে যখন আল-হারাম আল-শরিফ প্রাঙ্গণের গেটগুলো খুলে দেওয়া হয়, তখন দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুসল্লিরা সেখানে ভিড় জমান। দীর্ঘ সময় পর মসজিদে প্রবেশ করতে পেরে অনেককে আবেগাপ্লুত হয়ে চোখের পানি ফেলতে এবং প্রাঙ্গণের চত্বরে শুকরিয়া সিজদা আদায় করতে দেখা গেছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরুর দিন থেকে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল। এই দীর্ঘ সময়ে শুধুমাত্র মসজিদের কর্মচারী এবং জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ কর্মকর্তাদের সেখানে নামায পড়ার অনুমতি ছিল।
মসজিদটি বন্ধ থাকাকালীন গত ৬ এপ্রিল ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বিতর্কিতভাবে আল-হারাম আল-শরিফ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন বা ‘স্টর্ম’ করেছিলেন, যা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, একই সময়ে ইসরায়েলি প্রশাসন খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থান ‘চার্চ অব দ্য হোলি সেপুলকার’ও বন্ধ করে দিয়েছিল।
যদিও ইসরায়েলি সরকার এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত জরুরি অবস্থা বাড়িয়েছিল, তবে এই সময়ের মধ্যে মসজিদটি পুনরায় বন্ধ করা হবে কি না সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বর্তমানে মসজিদ উন্মুক্ত হওয়ার খবর পেয়ে জেরুজালেম ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দলে দলে সেখানে ছুটে আসছেন।
পবিত্র আল-আকসা মসজিদের পুনর্মুক্তকরণ ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি