অন্যদিকে শাস্তি তাদের চেয়ে হালকা হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন : ‘তাদের আগে যে জিন ও মানবজাতি গত হয়ে গেছে, তাদের মত এদের প্রতিও আল্লাহর বাণী সত্য হয়েছে। নিশ্চয়ই এরা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত। আর সবার জন্যই তাদের আমল অনুসারে মর্যাদা আছে। আর আল্লাহ যেন তাদেরকে তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দিতে পারেন। আর তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না। (সুরা আহকাফ, আয়াত : ১৮-১৯)
প্রত্যেকের কৃতকর্ম অনুসারে জাহান্নামে পৃথক স্তর থাকবে। এবং সে অনুযায়ী জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হবে।
পবিত্র কোরআনে এসেছে : ‘যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে আর আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, আমি তাদের শাস্তির ওপর শাস্তি বৃদ্ধি করব, কারণ তারা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করত।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ৮৮)
নুমান ইবনু বাশির (রা.) বলেন, আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে কেয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির সর্বাপেক্ষা লঘু আজাব হবে, যার দুই পায়ের তলায় দুটি প্রজ্জ্বলিত অঙ্গার রাখা হবে। এতে তার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে। যেমন ডেক বা কলসী ফুটতে থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫৬২)
এতে বোঝা যায়, জাহান্নামে সবার শাস্তি সমান হবে না। আর যদি কোনো কাফির এই দুনিয়ায় কোনো ভালো কাজ করে, যেমন : আত্মীয়-সম্পর্ক বজায় রাখা, পিতামাতাকে সম্মান করা, এতিমদের প্রতিপালন করা, বিধবা ও দরিদ্রদের জন্য চেষ্টা করা, অসুস্থদের চিকিৎসা করা ইত্যাদি, তাহলে পরকালে এগুলোর সুফল পাওয়া যাবে না। কারণ, পরকালে ভালো কাজের সুফল পেতে ঈমান নিয়ে কবরে যেতে হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন : ‘নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে এবং কাফের অবস্থায় মারা গেছে, তাদের কারো কাছ থেকে জমিন ভরা স্বর্ণ বিনিময়স্বরূপ প্রদান করলেও গ্রহণ করা হবে না, তাদের জন্যই আছে বেদনাদায়ক আজাব, আর তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৯১)
আরেক আয়াতে এসেছে : ‘মুশরিকদের জন্য আল্লাহর মসজিদগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করা শোভা পায় না, যখন তারা নিজেদের কুফরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। তাদের আমল মূল্যহীন হয়ে গেছে এবং তারা জাহান্নামে থাকবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ১৭)
মহান আল্লাহ আরো বলেছেন : ‘যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য উদাহরণ হলো এই যে তাদের আমল ঝোড়ো দিনে বাতাসে উড়ে যাওয়া ছাইয়ের মতো। তারা যা উপার্জন করেছে, তা থেকে কিছুই অর্জন করতে পারবে না। এটাই চরম পথভ্রষ্টতা।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত : ১৮)
কাফেরদের সৎকর্মের বিপরীতে এই দুনিয়াতেই প্রচুর জীবিকা, সৎ সন্তান, প্রেমময়ী স্ত্রী, স্বাস্থ্য, প্রশংসা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বস্তু দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একটি নেকির ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাআলা কোনো মুমিন বান্দার প্রতি অত্যাচার করবেন না।