রমনা বটমূলে বোমা হামলা: ২৫ বছরেও হয়নি বিচার

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানস্থলে বিস্ফোরিত হয় দুটি বোমা। নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নৃশংস ওই বোমা হামলায় প্রাণ হারান ১০ জন। আহত হন অনেকেই। এ ঘটনায় হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে আসামি করে ওই দিনই রমনা থানার পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা দুটি মামলা দায়ের করে। হত্যা মামলায় রায় হলেও বিস্ফোরক মামলার বিচার শেষ হয়নি ২৫ বছরেও।

বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-তে বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ এ মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে আসামিরা দেশের বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার থাকায় তাদের আদালতে হাজির করা হয়নি। এজন্য আদালত এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আগামী ৯ জুলাই দিন ধার্য করেছেন।

এদিকে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বিস্ফোরক মামলাটির বিচার শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।

তিনি বলেন, দেশের আলোচিত ঘটনার মামলার মধ্যে একটি রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা। এ ঘটনায় হত্যা মামলার বিচার শেষ হলেও বিস্ফোরক আইনে করা মামলাটির বিচার করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন এ মামলাটির বিচার হাইকোর্ট থেকে স্থগিত ছিল। তবে বর্তমানে মামলাটির স্থগিতাদেশ নেই। এ মামলায় ৮৪ জনের মধ্যে ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছে। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আছে। আশা করছি দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে মামলাটির বিচার শেষ করতে পারব। রায়ে সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি আমরা।

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. ইদি আমিন বলেন, আমরা আসামিপক্ষ থেকে মামলাটি দ্রুত শেষ করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি, কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ থেকে অবহেলা করা হয়েছে। আমরা আদালতকে অনেকবার মেনশন করেছি। আসামিদের ৩৪২ ধারার কার্যক্রম হয়ে যাক, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে শুনানির সময়ে তাদের আদালতে হাজির করা হচ্ছে না। এ কারণে মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে পড়ে রয়েছে। আসামিরা এরই মধ্যে ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে জেলহাজতে আটক রয়েছে। এ মামলায় সাজা দিলে আর কতই দেবেন আদালত। এই মামলায় আসামিদের বেশি সাজা ভোগ হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, বিস্ফোরক মামলার রায় ঘোষণা না হলেও রায় এসেছে হত্যা মামলার। গত বছর হাইকোর্ট থেকে এই মামলাটির রায় দেওয়া হলেও চূড়ান্ত রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয়নি। এই বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, যত দ্রুত সম্ভব হাইকোর্টে দেওয়া রায়টি প্রকাশের জন্য কথা বলব।