রাজধানীর পল্টনে দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে স্বামী জুবায়ের আহামেদ (২২) গলার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জুবায়ের আহমেদ ঢাকায় গুলশানে থাকতেন এবং গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলার দরিয়াপুর। তিনি পেশায় একজন বাবুর্চি ছিলেন।
এক বছর আগে একই উপজেলার হযরতপুর গ্রামের বশির মিয়ার মেয়ে তিশা আক্তার (২০) এর সঙ্গে জুবায়েরের বিয়ে হয়।
হেল্পলাইনে আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হাসান নিরব তার টিম নিয়ে পুরানা পল্টন নুরুল টাওয়ারের সপ্তম তলার ছাদের ওপর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন। তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ওই দিন দিবাগত রাতে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুরানা পল্টনে নুরুল টাওয়ার সপ্তম তলার ছাদের ওপর জুবায়ের রান্না করছিলেন।
সে সময়ে তার স্ত্রী তিসা আক্তার ভিডিও কলে কথা বলছিল, কথাবার্তা বলতে বলতে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। তখন জুবায়ের তাকে লাইনে রেখেই ফ্যানের সঙ্গে গলায় লুঙ্গি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়েন। পরে বিষয়টি তার স্ত্রী তিসা, জুবায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করেন। তারা সেখানে তার রুমে গিয়ে লুঙ্গির টুকরা কাপড় দ্বারা ঝুলন্ত অবস্থা দেখতে পান।
জানা যায়, জুবায়ের গত ২০২২ সালের মে মাস হতে জমজম স্পিনিং মিলস লিমিটেডের বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। পল্টনের ওই ভবনের ছাদে রান্না করতেন। রনক গ্রুপের এমডির জন্যও রান্না করতেন। তিনি রনক গ্রুপের এমডির গুলশানের বাসায় থাকতেন। প্রতিদিন এমডির সঙ্গে পল্টনে চলে আসতেন, সেখানে রান্নাবান্না শেষ করে আবার এমডির সঙ্গে চলে যেতেন।