রাকসু নির্বাচন অপেক্ষা চূড়ান্ত ফলাফলের, জয়ের পথে যারা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের সব কয়টি (১৭টি) হলের ফলাফল গণনা শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে ১৭টি হলের ব্যালট ওয়েমার মেশিন এর মাধ্যমে গণনার কাজ শেষ করেছি। মূলত ব্যালট পেপারগুলো ব্যালট বক্সে ছিন্নভিন্ন আকারে পড়ে আছে। এগুলোকে সমান আকারে আনতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এতেই সময় চলে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি দ্রুতই কাজ শেষ হবে। এজন্য আমরা আমাদের শিক্ষকদেরও কাজে লাগিয়েছি। আশা করছি আর এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল দিতে পারবো।

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ ভূমিধস জয়ের পথে রয়েছে।

ঘোষিত ১৭টি হলের মধ্যে ১২টির ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা প্রায় তিনগুণ ভোটে এগিয়ে আছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের চেয়ে।

ফলাফলে দেখা যায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর মোস্তাকুর রহমান জাহিদ পেয়েছেন ৭ হাজার ৫২৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের শেখ নূর উদ্দীন আবীর পেয়েছেন ২ হাজার ২২৩ ভোট। তিনগুণেরও বেশি ব্যবধানের এ ফলাফল রাকসুর ইতিহাসে বিরল এক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) পদে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সালাহউদ্দিন আম্মার এগিয়ে আছেন ৭ হাজার ৪৮৭ ভোট পেয়ে, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৯১ ভোট।

অন্যদিকে সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শিবির-সমর্থিত সালমান সাব্বির পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৭২ ভোট, এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল-সমর্থিত জাহিন বিশ্বাস এষা পেয়েছেন ৩ হাজার ৫২১ ভোট।

ফলাফল অনুযায়ী, ঘোষিত ১২টি কেন্দ্রে শিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে থাকায় ক্যাম্পাসজুড়ে শিবিরপন্থি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।

এবারের রাকসু নির্বাচনে ভোটার ২৮ হাজার ৯০১। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ৯টি একাডেমিক ভবনে স্থাপিত ১৭টি ভোটকেন্দ্রে। কেন্দ্রীয় রাকসুর ২৩টি পদে মোট ৩০৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধির পাঁচটি পদে ৫৮ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে ১৭টি হল সংসদের ২৫৫টি পদে মোট ৫৫৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটারের ৩৯ দশমিক ১০ শতাংশ নারী, ৬০ দশমিক ৯০ পুরুষ।